অস্থিভাস্কর; The Bone Sculptor: A Dark Mystery Thriller

অস্থিভাস্কর – পূর্ণাঙ্গ গল্প

অস্থিভাস্কর

Cover Image

ভূমিকা: অবিনশ্বর শিল্প

অস্থিভাস্কর—নামটা শুনলেই হয়তো শিউরে উঠবে ভবিষ্যৎ, কিন্তু এই অন্ধকার ঘরে বসে টেবিল ল্যাম্পের আলোয় লোকটা নিজেকে শুধুই একজন নিবেদিত শিল্পী মনে করে। বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ার শব্দ, আর ভেতরে হাড়ের ওপর ইস্পাতের ব্লেড ঘষার খসখস আওয়াজ।

মানুষ বড্ড বোকা। তারা আয়নায় নিজেদের চামড়া, রূপ আর যৌবন দেখে মুগ্ধ হয়। তারা জানে না, আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে গভীরে, মাংসের আড়ালে। মাংস পচে যায়, রক্ত শুকিয়ে যায়, কিন্তু হাড়? হাড় অবিনশ্বর। হাড় হলো প্রকৃতির সবচেয়ে নিখুঁত জ্যামিতি।

টেবিলের ওপর রাখা ১৮১৮ সালের পুরনো তামাটে কয়েনটা ল্যাম্পের আলোয় চকচক করছে। লোকটা সেটার দিকে তাকিয়ে হাসল। ইতিহাসকে মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখা যায় না, তাকে খুঁড়ে বের করতে হয়। তাকে সাজাতে হয়।

“আর মাত্র কয়েকটা টুকরো,” লোকটা বিড়বিড় করে উঠল, তার গলায় অদ্ভুত এক আবেশ। “তারপরই আমার সৃষ্টি পূর্ণতা পাবে। এই শহর দেখবে শিল্পের আসল রূপ।”

সে আলতো করে হাড়ের গায়ে হাত বোলাল। যেন কোনো প্রিয়তমার গালে হাত রাখছে। তারপর জানলার বাইরে বৃষ্টির দিকে তাকাল। শিকার প্রস্তুত। শিল্পীও প্রস্তুত।

খেলা শুরু হওয়ার অপেক্ষা মাত্র।

Crime Scene

প্রথম অধ্যায়: মৃত্যুর ক্যানভাস

কলকাতার আকাশ তখন ঘন কালো মেঘে ঢাকা। গত তিনদিন ধরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। উত্তর কলকাতার এক পরিত্যক্ত জুট মিলের ভেতরে বাতাসের গন্ধটা কেমন যেন পচা, ভ্যাপসা। সাব-ইন্সপেক্টর সৃজিতা সেন রুমালে নাক চেপে টর্চের আলোটা ফেললেন মেঝের দিকে। দৃশ্যটা দেখার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।

মেঝের মাঝখানে একটা কাঠের চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় বসে আছে এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। কিন্তু তাকে খুন করার ধরনটা সাধারণ নয়। তার হাতের আঙুলের মাংস খুব নিখুঁতভাবে চেঁচে ফেলা হয়েছে, যেন কোনো দক্ষ শিল্পী মাটি দিয়ে মূর্তি গড়তে গড়তে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছেন। শুধু হাড়গুলো বেরিয়ে আছে। আর সেই হাড়ের ফাঁকে গুঁজে রাখা একটা ছোট্ট পুরনো আমলের তামার কয়েন।

সৃজিতা কাঁপা কাঁপা হাতে ওয়াকিটকি অন করলেন। “কন্ট্রোল, লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু ব্যাপারটা… স্বাভাবিক নয়।”

ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম এল, কিন্তু সৃজিতা জানতেন, এই রহস্য ভেদ করা লালবাজারের সাধারণ গোয়েন্দাদের কম্ম নয়। এর জন্য দরকার এমন একজনকে, যার মস্তিষ্ক অপরাধীর চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে চলে। সৃজিতার মনে পড়ল অনির্বাণ রায়ের কথা। একসময়ের কিংবদন্তি গোয়েন্দা, আজ যে চারদেওয়ালের বন্দি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: স্থবির মস্তিষ্ক

Anirban's Room

দক্ষিণ কলকাতার এক পুরনো আমলের বাড়ির দোতলার ঘর। ঘরভর্তি মনিটর, বইয়ের পাহাড় আর নানারকম অদ্ভুত গ্যাজেট। ঘরের মাঝখানে এক অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় বিছানায় শুয়ে আছেন অনির্বাণ রায়। তিন বছর আগে এক বিস্ফোরণে স্পাইনাল কর্ডে আঘাত লাগার পর থেকে তার গলার নিচের অংশ প্রায় অচল। কিন্তু তার চোখদুটো এখনো বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ।

সৃজিতা ঘরে ঢুকে ফাইলটা অনির্বাণের সামনে মেলে ধরলেন। অনির্বাণ মনিটরে জুট মিলের ছবিগুলো জুম করে দেখছিলেন। তাঁর চোখের মণি স্থির হয়ে গেল সেই হাড়ের ফাঁকে গুঁজে রাখা কয়েনটার ওপর।

“ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কয়েন, ১৮১৮ সাল,” অনির্বাণ বিড়বিড় করে বললেন। “সৃজিতা, ভিক্টিমের ডান হাতের তর্জনীর হাড়টা লক্ষ্য করেছ?”
সৃজিতা অবাক হয়ে তাকালেন। “হ্যাঁ স্যার, মাংস চেঁচে ফেলা হয়েছে।”
“না, ভালো করে দেখো। হাড়ের গায়ে কিছু খোদাই করা আছে। জুম করো।”

সৃজিতা ল্যাপটপে ছবিটা জুম করতেই শিউরে উঠলেন। হাড়ের গায়ে খুব সূক্ষ্মভাবে ল্যাটিন ভাষায় লেখা— ‘Ossum’।

“অসাম? এর মানে কী?”
“ল্যাটিন শব্দ। এর মানে ‘হাড়’ (Bone),” অনির্বাণের গলায় উত্তেজনার আভাস। “খুনি শুধু খুন করছে না, সৃজিতা। ও একটা কালেকশন বানাচ্ছে। ও হাড় সংগ্রহ করছে। আর এই কয়েনটা… এটা একটা সূত্র। ১৮১৮ সালে কলকাতায় কী হয়েছিল জানো?”

সৃজিতা মাথা নাড়লেন।

“১৮১৮ সালে কলকাতায় হেয়ার স্কুল বা ওই সময়ের কোনো শিক্ষা ও সংস্কারমূলক আন্দোলন দানা বাঁধছিল। তবে আমার মনে হচ্ছে খুনি আমাদের ইতিহাসের কোনো এক অন্ধকার অধ্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে। সৃজিতা, তৈরি হও। এটা সবে শুরু।”

তৃতীয় অধ্যায়: দ্বিতীয় শিকার

ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা পর। শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এবার নিখোঁজ হয়েছেন শহরের নামকরা অর্থোপেডিক সার্জন ডা. রুদ্রপ্রতাপ। অনির্বাণের বেডরুমে তখন টানটান উত্তেজনা। সৃজিতার বডি-ক্যামেরা থেকে সরাসরি লাইভ ফিড আসছে অনির্বাণের মনিটরে।

“স্যার, একটা প্যাকেট এসেছে লালবাজারে,” সৃজিতা ফোনে জানালেন।

প্যাকেটটা খোলার পর পাওয়া গেল একটা মানুষের পাঁজরের হাড়। তার গায়ে খোদাই করা— ‘Fundamentum’ (ভিত্তি)। আর সাথে এক টুকরো পুরনো ম্যাপ। ম্যাপটা ছিঁড়ে এমনভাবে রাখা হয়েছে যে বোঝা দায় ওটা কোথাকার।

Map Evidence

অনির্বাণ মনিটরে ম্যাপের টুকরোটা স্ক্যান করে নিলেন। তাঁর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। শরীর অচল হলেও মস্তিষ্ক ছুটছে ঝড়ের গতিতে।

“সৃজিতা, ম্যাপের এই নীল রেখাটা গঙ্গা নয়। এটা আদি গঙ্গা। আর এই যে মার্ক করা জায়গাটা, এটা টালিগঞ্জের কাছে কোনো পুরনো শ্মশান বা কবরস্থান হতে পারে। কিন্তু ‘ভিত্তি’ কেন?”

হঠাৎ অনির্বাণের চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। “ফাউন্ডেশন! হাড় দিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর! সৃজিতা, ডা. রুদ্রপ্রতাপ যে নতুন হাসপাতালটা বানাচ্ছেন, সেটার নির্মাণস্থল (Construction site) কোথায়?”

“তিলজলার দিকে, স্যার।”
“না, ওটা বর্তমান। খোঁজ নাও, ওই জমির নিচে আগে কী ছিল। ১৮০০ শতকে ওখানে কি কোনো সমাধিস্থল ছিল?”

মিনিট দশেকের মধ্যে তথ্য এল। হ্যাঁ, ওখানে ব্রিটিশ আমলের এক পরিত্যক্ত সিমেট্রি ছিল, যা ভেঙে হাসপাতাল হচ্ছে।

“খুনি নিজেকে সেই মৃতদের রক্ষক ভাবছে। ও ডাক্তারকে শাস্তি দিচ্ছে। জলদি যাও! হাতে সময় নেই। ও ডা. রুদ্রপ্রতাপের হাড় দিয়ে ওই জমিতেই ‘ভিত্তি’ স্থাপন করবে।”

চতুর্থ অধ্যায়: সময়ের দৌড়

সৃজিতা আর তাঁর টিম যখন কনস্ট্রাকশন সাইটে পৌঁছাল, তখন রাত দুটো। চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু দূরে একটা টিমটিমে হ্যালোজেন জ্বলছে। অনির্বাণ হেডফোনে এবং ভিডিও ফিডের মাধ্যমে সৃজিতার সাথে সংযুক্ত।

“সাবধানে সৃজিতা। জায়গাটা গোলকধাঁধার মতো। আর খুনি কিন্তু তোমাকে দেখছে,” অনির্বাণের যান্ত্রিক স্বর কানে বাজল।

সৃজিতা বন্দুক উঁচিয়ে মাটির নিচে খোঁড়া এক টানেলের দিকে এগিয়ে গেলেন। স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল। পায়ের নিচে কাদা আর ইঁটের টুকরো। হঠাৎ নাকে এল সেই পরিচিত পচা গন্ধ। ফর্মালিন আর রক্তের মিশ্রণ।

Tunnel Scene

টানেলের শেষে একটা বড় চেম্বার। সেখানে ডা. রুদ্রপ্রতাপকে একটা লোহার বিমের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাঁর মুখের ওপর টেপ মারা, চোখদুটো ভয়ে ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। তাঁর পায়ের কাছে বসে আছে এক ছায়ামূর্তি। হাতে একটা হাড় কাটার করাত।

“পুলিশ!” সৃজিতা চিৎকার করে উঠলেন।

ছায়ামূর্তিটা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তার পরনে রেইনকোট, মুখটা হুডে ঢাকা। সে করাতটা হাতে নিয়ে অদ্ভুত যান্ত্রিক হাসি হাসল।

“দেরি হয়ে গেছে, অফিসার। শিল্প প্রায় সম্পূর্ণ,” লোকটার গলা ভারী আর খসখসে।

অনির্বাণ মনিটরে কিছু একটা দেখে চিৎকার করে উঠলেন, “সৃজিতা! থামো! ওকে কাছে আসতে দিও না। ও শুধু খুনি নয়, ও ট্র্যাপ এক্সপার্ট। ইনফ্রারেড ক্যামেরায় আমি দেখতে পাচ্ছি… মেঝের দিকে তাকাও!”

সৃজিতা মেঝের দিকে তাকাতেই দেখলেন, কাদার মধ্যে সরু তার (Tripwire) পাতা। আর একটু এগোলেই ওটা ট্রিগার করত। ওপর থেকে কংক্রিটের স্ল্যাব ধসে পড়ত ওদের ওপর।

খুনি সুযোগ বুঝে পেছনের অন্ধকার গলি দিয়ে দৌড় দিল। সৃজিতা ট্র্যাপ এড়িয়ে ডাক্তারকে উদ্ধার করতে গেলেন, কিন্তু অনির্বাণ বারণ করলেন।

“আগে ডাক্তারকে ছুঁতে যেও না! ওর শরীরে বোমা থাকতে পারে। লোকটা হাড়ের কারবারি, কিন্তু প্রযুক্তি বোঝে। ডাক্তারের বুকের কাছে দেখো কোনো টাইমার আছে কি না।”

সৃজিতা ভালো করে লক্ষ্য করলেন। ডা. রুদ্রপ্রতাপের গলার সাথে একটা তার প্যাঁচানো, যেটা একটা পুরনো আমলের ঘড়ির সাথে যুক্ত। টিক-টিক শব্দ হচ্ছে।

“স্যার, টাইমার চলছে। আর মাত্র দু’মিনিট!” ভয়ে সৃজিতার গলা কেঁপে উঠল।
“শান্ত হও। ঘড়িটা দেখো। ওটা কি মেকানিক্যাল?”
“হ্যাঁ স্যার।”
“ওটার পেছনে একটা ছোট্ট লিভার থাকার কথা। হাড় কাটার যন্ত্রে যেমন থাকে। ওটা হাড় দিয়ে তৈরি হতে পারে। ওটা বাঁ দিকে ঘোরাও, খুব সাবধানে।”

সৃজিতা কাঁপা কাঁপা হাতে ঘড়িটার পেছনে হাত দিলেন। একটা সরু হাড়ের টুকরো লিভারের মতো বেরিয়ে আছে। তিনি আলতো করে বাঁ দিকে ঘোরাতে চেষ্টা করলেন। একটু এদিক-ওদিক হলেই সব শেষ।

‘ক্লিক’ করে একটা শব্দ হলো। টাইমার বন্ধ হয়ে গেল। সৃজিতা ধপ করে মাটিতে বসে পড়লেন। ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে তাঁর।

পঞ্চম অধ্যায়: অন্তিম খেলা

ডাক্তার উদ্ধার পেলেও খুনি পালিয়েছে। সৃজিতা হতাশ হয়ে ফিরে এলেন অনির্বাণের কাছে। কিন্তু অনির্বাণ তখনো শান্ত।

“ও পালায়নি সৃজিতা। ও আমাদের পরীক্ষা করছিল। ও চায় আমরা ওর কাছে যাই। ওর আসল ডেরা ওখানেই, যেখানে সব হাড় জমা হয়।”
“কোথায় সেটা?”
“শহরের মিউজিয়ামের পেছনের পুরনো অ্যানাটমি হল। যেটা এখন পরিত্যক্ত। ওর ফেলে যাওয়া ম্যাপের কাগজের গন্ধ পেয়েছ? ওটা পুরনো লাইব্রেরির বইয়ের গন্ধ। আর ওই বিশেষ হাড় কাটার করাত… ওটা অ্যান্টিক পিস। একমাত্র মিউজিয়ামের স্টোররুমেই ওটা পাওয়া সম্ভব।”

রাত তখন চারটে। সৃজিতা একাই ঢুকলেন অ্যানাটমি হলের ভেতরে। ব্যাকআপ টিম বাইরে। অনির্বাণের নির্দেশ— “শব্দ করবে না। ও শব্দের কম্পন অনুভব করতে পারে।”

হলঘরটা বিশাল। সারি সারি কাঁচের জারে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রাখা। মাঝখানে একটা বড় টেবিল। সেখানে একটা কঙ্কাল সাজানো হচ্ছে। কঙ্কালটার বেশিরভাগ অংশই নকল, কিন্তু কিছু অংশ আসল মানুষের হাড় দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

হঠাৎ অন্ধকারের ভেতর থেকে এক ঝলকানি। সৃজিতার কাঁধে এসে বিঁধল একটা ধারালো স্ক্যালপেল। যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠলেন তিনি, হাত থেকে বন্দুকটা ছিটকে পড়ে গেল।

খুনি বেরিয়ে এল ছায়া থেকে। এবার তার মুখের হুড খোলা। এক শীর্ণকায় যুবক, চোখে মোটা চশমা। নাম সুমিত, মিউজিয়ামের প্রাক্তন কিউরেটর।

“আমার সৃষ্টি তোমরা বুঝতে পারছ না,” সুমিত পাগলের মতো হাসতে লাগল। “আমি মানুষকে অমর করছি। তাদের নশ্বর মাংস পচে যায়, কিন্তু হাড়? হাড় অবিনশ্বর।”

সুমিত এগিয়ে এল সৃজিতার দিকে। হাতে সেই হাড় কাটার করাত। “তোমার হাতের হাড়গুলো খুব সুন্দর। আমার কালেকশনে ওগুলো দারুণ মানাবে।”

সৃজিতা পিছিয়ে যাচ্ছেন, পিঠ ঠেকে গেছে দেওয়ালে। অনির্বাণ হেডফোনে ফিসফিস করে বলছেন, “সৃজিতা, তোমার ডানদিকে একটা ডিসপ্লে ক্যাবিনেট আছে। ওটার কাঁচ আলগা। ওতে স্পেসিমেন রাখার ফর্মালিন আছে। লাথি মারো ওটা!”

সুমিত যখন একদম কাছে, সৃজিতা সর্বশক্তি দিয়ে লাথি মারলেন ক্যাবিনেটটায়। ঝনঝন করে কাঁচ ভেঙে ফর্মালিন ভর্তি জারগুলো পড়ল সুমিতের গায়ের ওপর। ফর্মালিনের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে আর চোখের জ্বালায় সুমিত আর্তনাদ করে উঠল।

সেই সুযোগে সৃজিতা নিজের পড়ে যাওয়া বন্দুকটা তুলে নিলেন।

“থামো!” সৃজিতা গর্জন করে উঠলেন।

সুমিত তবুও অন্ধের মতো করাত চালাতে গেল।

গুড়ুম!

গুলির শব্দে অ্যানাটমি হল কেঁপে উঠল। সুমিতের পায়ে গুলি লেগে সে হুমড়ি খেয়ে পড়ল তার সাধের অসম্পূর্ণ কঙ্কালের ওপর। কঙ্কালটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল তার শরীরের ভারে।

উপসংহার: নতুন সকাল

বৃষ্টি থেমে গেছে। ভোরের আলো ফুটছে কলকাতায়। অনির্বাণের ঘরে বসে সৃজিতা হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধছেন।

“তুমি ভালো কাজ করেছ, অফিসার,” অনির্বাণ জানলার দিকে তাকিয়ে বললেন।
“সব আপনার জন্য স্যার। আপনি না থাকলে…”
“আমি শুধু দিক দেখিয়েছি। কিন্তু সেই অন্ধকার টানেলে ঢোকার সাহস তোমারই ছিল,” অনির্বাণ হাসলেন। “তবে একটা কথা, সুমিত বলেছিল ওর কঙ্কালটা ‘অসম্পূর্ণ’। জানো কেন?”
“কেন স্যার?”
“কারণ ও নিজের হাড় দিয়ে ওটা শেষ করতে চেয়েছিল। ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল, নিজেকেও শিল্পের অংশ ভাবত। যাই হোক, কেস ক্লোজড।”

সৃজিতা উঠে দাঁড়ালেন। বাইরে রোদ উঠছে। শহরের রাস্তায় আবার ব্যস্ততা শুরু হবে। কিন্তু তিনি জানেন, এই শহরের আনাচে-কানাচে এখনো অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে, আর যতক্ষণ অনির্বাণ রায়ের মতো মস্তিষ্ক আছে, ততক্ষণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

© 2025 অস্থিভাস্কর | ডিজাইন করা হয়েছে পাঠকদের জন্য

Scroll to Top