প্রজেক্ট ক্যাসান্দ্রা। The Real Story Of Cyber Thriller

প্রজেক্ট ক্যাসান্দ্রা

প্রজেক্ট ক্যাসান্দ্রা

ধরণ: সাসপেন্স থ্রিলার | লেখক;সঙ্গীত দত্ত
Cover Image
সারসংক্ষেপ

অর্ণব সেনগুপ্ত, একজন দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি এনালিস্ট, একটি রহস্যময় নীল পেনড্রাইভ খুঁজে পাওয়ার পর এক গভীর ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পড়ে। পেনড্রাইভের একটি ভিডিও তার নিজের আসন্ন মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করে। ‘দ্য আর্ক’ নামক এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাঁচতে সে রিয়া নামের এক তরুণীর সাথে হাত মেলায়। প্রযুক্তির এই মায়াজালে অর্ণব কি পারবে নিজেকে বাঁচাতে?

প্রথম অধ্যায়: নীল ফ্ল্যাশ ড্রাইভ

কলকাতার নিউ টাউনের ৩৬ তলার পেন্টহাউস থেকে নিচের শহরটাকে দেখলে মনে হয় যেন এক বিশাল সার্কিট বোর্ড। হাজার হাজার আলো জ্বলছে, নিভছে। অর্ণব তখনও জানত না যে আজকের রাতটি তার জীবনে একটি শ্বাসরুদ্ধকর বাংলা সাসপেন্স থ্রিলার হয়ে উঠবে, আর সে জড়িয়ে পড়বে প্রজেক্ট ক্যাসান্দ্রা নামের এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রে।

অর্ণব সেনগুপ্ত। পেশায় সাইবার সিকিউরিটি এনালিস্ট, নেশায় হ্যাকার। রাত তখন দুটো। জানালার কাচে বৃষ্টির ঝাপটা লাগছে। অর্ণব ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরাল। তার টেবিলে কফির মগটা ঠান্ডা হয়ে পড়ে আছে। আজ সকালে মর্নিং ওয়াকে গিয়ে পার্কের বেঞ্চে সে একটা পেনড্রাইভ পেয়েছে। সাধারণ কোনো ড্রাইভ নয়, গাঢ় নীল রঙের, কোনো ব্র্যান্ডের নাম নেই, শুধু একটা ছোট রূপালী মাকড়সার লোগো আঁকা।

সাধারণ মানুষের উচিত ছিল ওটা পুলিশে জমা দেওয়া বা ইগনোর করা। কিন্তু অর্ণব সাধারণ নয়। সে ওটা বাড়ি নিয়ে এসেছে। স্যান্ডবক্স এনভায়রনমেন্টে ড্রাইভটা প্লাগ করার পর থেকেই তার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাচ্ছে।

ড্রাইভে মাত্র একটা ফাইল ছিল। একটা ভিডিও। ভিডিওটা প্লে করার পর অর্ণব নিজের চোখের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে অর্ণবের নিজের ঘর। ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে রাত ২টো বেজে ১৫ মিনিট। অর্থাৎ বর্তমান সময় থেকে মাত্র ১০ মিনিট পর। ভিডিওর অর্ণব টেবিলের ওপর মাথা রেখে মরে পড়ে আছে। তার গলার কাছে একটা নীল রঙের ইনজেকশনের সিরিঞ্জ গাঁথা।

অর্ণব ঘড়ির দিকে তাকাল। ২টো বেজে ৬ মিনিট। আর ঠিক ন’মিনিট বাকি। এটি কি কোনো প্র্যাঙ্ক? হঠাৎ তার স্মার্ট হোমের স্পিকারটা নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল। যান্ত্রিক এক কণ্ঠস্বর ভেসে এল, “শুভ রাত্রি, মিস্টার সেনগুপ্ত। আপনার হাতে আর আট মিনিট সময় আছে। ফাইলটা ডিলিট করবেন, নাকি নিজের ভাগ্য বরণ করবেন?”

অর্ণব চিৎকার করে উঠল, “কে? কে কথা বলছে?”

“আমি ক্যাসান্দ্রা। আপনি এমন কিছু হাতে পেয়েছেন যা আপনার পাবার কথা ছিল না।”

অর্ণব দ্রুত ল্যাপটপে কমান্ড টাইপ করতে শুরু করল। “পালানোর চেষ্টা করবেন না,” যান্ত্রিক স্বরটি আবার বলল, “আপনার দরজার বাইরে দুজন অপেক্ষা করছে।”

ঠিক ২টো ১০ মিনিটে দরজায় কলিং বেল বাজল।

দ্বিতীয় অধ্যায়: অদৃশ্য অতিথি

অর্ণব দরজার আই-হোল দিয়ে তাকাল। কেউ নেই। কিন্তু বেলটা বেজেই চলেছে। সে দরজা খোলার বদলে ল্যাপটপটা ব্যাগে ভরল, সাথে নীল পেনড্রাইভটা। জানালার দিকে ছুটে ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল।

নেমে এল বেসমেন্টে। হঠাৎ তার পকেটের ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল। আননোন নাম্বার।
“অর্ণব, তুমি ভুল করছ। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তুমি ৩ জন ক্যামেরার চোখে পড়েছ।”—কণ্ঠটা যান্ত্রিক নয়, এটি একটি মেয়ের গলার স্বর।

“কে তুমি?” অর্ণব হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করল।

“আমি রিয়া। যার পেনড্রাইভ তুমি কুড়িয়ে পেয়েছ। যদি বাঁচতে চাও, তবে ইকো পার্কে ৪ নম্বর গেটের সামনে এসো।”

পার্কের গেটের কাছে রিয়া জানাল, “ওটা ‘প্রজেক্ট ক্যাসান্দ্রা’। একটা প্রেডিক্টিভ এআই। ওটা ভবিষ্যৎবাণী করে না, ওটা ভবিষ্যৎ তৈরি করে। ভিডিওটা ছিল একটা সিমুলেশন।”

হঠাৎ একটি কালো এসইউভি হেডলাইট অফ করে তীব্র গতিতে তাদের দিকে ধেয়ে এল। “পালাও!” রিয়া চিৎকার করে উঠল।

তৃতীয় অধ্যায়: কোডের গোলকধাঁধাঁ

তারা দুজন পার্কের পেছনের জঙ্গল দিয়ে ছুটে সেক্টর ফাইভের একটা পরিত্যক্ত সার্ভার রুমে আশ্রয় নিল। রিয়া বলল, “এটা অফ-গ্রিড, এখানে ওরা আমাদের ট্র্যাক করতে পারবে না।”

অর্ণব নীল পেনড্রাইভটা কম্পিউটারে লাগাল। স্ক্রিনে অজস্র কোড ভেসে উঠল।
“রিয়া, এটা তো শুধু ব্ল্যাকমেইল ডেটা নয়। এটা… এটা তো নিউরো-লিংকিং কোড! এই কোড মানুষের ব্রেন ওয়েভ ম্যানিপুলেট করতে পারে।”

রিয়া ধীর পায়ে অর্ণবের দিকে এগিয়ে এল। তার হাতে এখন একটা ছোট পিস্তল। “তুমি খুব স্মার্ট, অর্ণব। আমিই আর্ক। কোনো সিন্ডিকেট নেই। এই অ্যালগরিদমটা আমার মাস্টারপিস। এটা টেস্ট করার জন্য একটা সাবজেক্ট দরকার ছিল। তুমি পারফেক্ট গিনিপিগ ছিলে।”

রিয়া বন্দুক তাক করল। “ধন্যবাদ, অর্ণব। তোমার কাজ শেষ।”

চতুর্থ অধ্যায়: বাঘ ও শিকারি

অর্ণব শান্তভাবে হাসল। “হাসছ কেন?” রিয়া অবাক হলো।

“কারণ,” অর্ণব বলল, “মানুষের ইনটিউশন বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। পার্কে এত কাদার মধ্যেও তোমার স্নিকার্স একদম পরিষ্কার ছিল। তখনই আমি সন্দেহ করেছিলাম। ড্রাইভটা লাগানোর সময় আমি একটা ‘কিল সুইচ’ রান করিয়েছি।”

কম্পিউটারের স্ক্রিনে হঠাৎ লাল আলো জ্বলে উঠল। ‘SYSTEM PURGE INITIATED’

“তুমি কী করেছ!” রিয়া চিৎকার করে উঠল। কিন্তু হঠাৎ পুরো বিল্ডিং-এর বিদ্যুৎ চলে গেল। অর্ণব অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সরে গেল। স্পিকারে অর্ণবের গলা ভেসে এল, “রিয়া, তোমার নিজের অ্যালগরিদম এখন তোমাকে লক করে দিয়েছে। পুলিশ আসছে।”

শেষ অধ্যায়: নতুন সকাল

সকাল সাতটা। পুলিশ রিয়াকে ধরে নিয়ে গেল। অর্ণব পেনড্রাইভটা পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বলল, “আমি ভাইরাস দিয়ে সব ওয়াইপ করে দিয়েছি। এই প্রযুক্তি কারো হাতে থাকাই নিরাপদ নয়।”

বাড়ি ফেরার পথে অর্ণবের ফোনে একটি মেসেজ এল: “Game Over, Level 1. Welcome to Level 2.”

অর্ণব থমকে দাঁড়াল। খেলা তাহলে শেষ হয়নি। সবে শুরু। সে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেল, কিন্তু এবার তার চোখ অনেক বেশি সতর্ক। ডিজিটাল জঙ্গল বড় ভয়ঙ্কর, এখানে শিকারি কখন শিকার হয়ে যায়, কেউ জানে না।

© 2024 গল্প কুঞ্জ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Scroll to Top