নীল কুঠির – এক অভিশপ্ত বাংলোর রক্তহিম করা ভৌতিক গল্প

নীল কুঠির – পূর্ণ গল্প

নীল কুঠির

🎧 পূর্ণ গল্পের ভয়েস ভার্সন (ডাউনলোড/নতুন ট্যাবে শুনুন)

ববি, রনি এবং প্রিয়া—শহরের তিন দুঃসাহসী তরুণ। তাদের নেশা হলো অলৌকিকতা বা ভূতের অস্তিত্ব প্রমাণ করা। শেষমেশ তারা চ্যালেঞ্জ নিলো শতবর্ষী, গা ছমছমে ‘নীল কুঠির’ রহস্য উন্মোচন করার। কুঠিটি লোকালয় থেকে বহু দূরে, এক নির্জন পাহাড়ি পথের গভীরে ঘন জঙ্গলের আবছায়ায় দাঁড়িয়ে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করে, সেখানে প্রায় এক শতাব্দী আগে এক জমিদার কন্যা করুণ পরিণতি ভোগ করেছিলেন এবং তার আত্মা আজও রাতে অতিথিদের খোঁজে ঘোরে।

নীল কুঠির

প্রথম প্রবেশ: নিস্তব্ধতার শীতল স্পর্শ

রাত তখন প্রায় ১টা বেজে ৩০ মিনিট। চাঁদ মেঘের আড়ালে ঢাকা। শুধু তাদের হাতে থাকা তিনটি টর্চের আলো জঙ্গল ভেদ করে পথ দেখাচ্ছে। কুঠির বাইরে দাঁড়িয়ে প্রিয়া ভয়ে কাঁপছিল।

“ববি, আমার মনে হয় আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত,” প্রিয়া ফিসফিস করে বললো।

ববি বললো, “আরে ধুর, ভয় পাস না। বিশ মিনিট থাকব, তারপর ফিরে আসব।”

রনি বিশাল কাঠের দরজাটা ধাক্কা দিতেই জীর্ণ কপাটগুলো বীভত্স শব্দে খুলে গেল। ভেতরের হলঘরটা পচা কাঠ আর ভেজা মাটির তীব্র গন্ধে ভরা।

করিডোর: ফিসফিস আর পায়ের শব্দ

সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই ববি চমকে উঠে বললো, “এটা বরফের মতো ঠাণ্ডা!”

উপরে উঠে তারা দেখলো—একটা লম্বা করিডোর, সারি সারি ঘর। ঠিক তখনই শেষ প্রান্ত থেকে পুরনো চামড়ার জুতোর মতো পায়ের শব্দ ভেসে এলো।

তারা আলো নিভিয়ে আলমারির আড়ালে লুকিয়ে পড়লো। পায়ের শব্দ এসে থামলো তাদের সামনে। তারপর এক শীতল নিঃশ্বাস যেন তাদের খুঁজে দেখলো।

হঠাৎ ববি অনুভব করলো—তার কাঁধে ঠাণ্ডা হাত! প্রিয়া দেখলো অন্ধকারে দু’টি হলুদ চোখ ভাসছে। মুহূর্তে শব্দ দূরে সরে মিলিয়ে গেল।

করিডোর

সেই ঘর: পোর্ট্রেট এবং অভিশাপ

এক ভাঙা দরজার ভেতরে তারা দেখলো জমিদার কন্যা অরুন্ধতীর পোট্রেট। তার চোখে গভীর বিষাদ।

প্রিয়া ছবিটি ছুঁতেই তার হাত আটকে গেল! ঠিক তখনই অরুন্ধতীর চোখ থেকে কালো জল গড়িয়ে পড়লো।

তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেল। ঘরের কোণ থেকে বীভত্স মেয়েলি কান্না শোনা গেল। অবশেষে প্রিয়ার হাত মুক্ত হলো, কিন্তু তার হাতে গভীর নীল দাগ দেখা দিল।

পোট্রেট থেকে ফিসফিস শব্দ এল—”তোমাদের রক্ত… কুঠির চায়…”

পোর্ট্রেট অভিশাপ

শেষ মুহূর্ত

করিডোরে ফিরতেই তারা দেখলো সিঁড়ির মুখ বন্ধ—এবার পালানোর কোনো পথ নেই। সব দরজা খুলে গিয়ে অজস্র ফিসফিসে কণ্ঠস্বর চারপাশ ভরিয়ে তুললো। তারা দৌড়ে করিডোরের শেষ মাথায় পৌঁছে দেখলো সেখানে শুধু দেয়াল।

ঠিক তখনই অরুন্ধতী রক্তমাখা সাদা শাড়িতে ভেসে এসে দাঁড়ালো। তার চোখ রক্তবর্ণে জ্বলছে।

“এখানে সব শেষ হয়। চিরকালের জন্য…”

পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক করুণ চিৎকার শোনা গেল—তারপর সব নিস্তব্ধ।

পরদিন

কুঠির দরজায় পাওয়া গেল তিনটি ভাঙা মোবাইল আর একটি টর্চ। ভেতরে কোনো চিহ্ন নেই।

অরুন্ধতীর পোট্রেটে আর বিষাদ নেই—ছিল এক জঘন্য বিজয়ী হাসি। নীল কুঠির আবার তার শিকার পেল।

Scroll to Top